আরবি বছরের নবম মাস হলো রমজান মাস, এই মাস অনেক ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। এ মাসে মুসলমানদের জন্য আল্লাহ্ তায়ালা ত্রিশটি রোজা ফরজ করে দিয়েছেন।
এ সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক পবিত্র কুরআনে সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, "হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো, পরহেজগার হতে পারো।"
রোজা শব্দটি ফারসি। এর আরবি পরিভাষা হচ্ছে সওম, বহুবচনে বলা হয় সিয়াম। সওম অর্থ বিরত থাকা, পরিত্যাগ করা।
অর্থাৎ এই মাসে আমাদের সকল পাপাচার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ইবাদতে মশগুল থাকতে হবে।
রোজা রাখার পূর্বে আমাদের সেহরি খেতে হবে ও রোজার নিয়ত করতে হবে।
রোজার নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
বাংলায় নিয়ত : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো রোজা রাখা অবস্থায় করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে, আমরা সবসময় যেসব কাজ থেকে বিরত থাকবো, এছাড়াও আরো কিছু কাজ আছে যেগুলো করলে রোজা মাকরুহ হয়ে যাবে তাই আমাদের এসব কাজ করা উচিত নয়। নিচে রোজা ভঙ্গ ও মাকরুহ হওয়ার কারণগুলো উল্লেখ করে দেওয়া হলো :
রোজা ভঙের কারণ
১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
২. স্ত্রী সহবাস করলে।
৩. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙবে না)।
৪. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।
৫. নস্য গ্রহণ করা, নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করালে।
৬. জবরদস্তি করে কেউ রোজা ভাঙালে।
৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ওষুধ পৌঁছালে।
৮. কংকর, পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।
৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সূর্যাস্ত হয়নি।
১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে।
১১. দাঁত থেকে ছোলা পরিমান খাদ্যদ্রব্য গিলে ফেললে।
১২. ধূমপান করা, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করলে।
১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে।
১৪. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।
১৫. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর জাগরিত হলে।
রোজার মাকরুহ
১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চাখা।
২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা।
৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া। কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।
৪. ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গিলে খেলে।
৫. গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফাসাদ করা। কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া-ফাসাদ করতে এলে বলবে, আমি রোজাদার তোমাকে প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম।
৬. সাড়া দিন নাপাক অবস্থায় থাকা।
৭. অস্থিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা।
৮. কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।
সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের পর ইফতার করতে হয়, ইফতার না করলে রোজা পুর্ণ হবে না, ইফতারের সময় বিসমিল্লাহ বলে ইফতারের দোয়া পড়তে হয় এখানে নিচে ইফতারের দোয়া দেওয়া হলো
-اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত)
এরপর রাতে এশার সালাত আদায় করে দুই রাকাত করে মোট বিশ রাকাত তারাবীহ নামাজ পড়তে হয়।
তারাবীহ নামাজের নিয়ম জানতে নিচের লিংকে প্রবেশ করুন : তারাবীহ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত।
আল্লাহ্ তায়ালা সব মুসলিম ভাই বোনদের ত্রিশটি রোজা রাখার তৌফিক দান করুন।
আমীন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন